সময় ডেস্ক :: একসময় হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকেরা সহজেই চালাতেন সংসারের দৈনন্দিন বাজার। মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুই কিনতে পারতেন স্বাচ্ছন্দে। কিন্তু এখন সেই চিত্র পুরোপুরি উল্টো। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এক কেজি গরু বা খাসির মাংস কিনতে কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় এক মণ পেঁয়াজ। ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটছে এলাকার পেঁয়াজচাষিদের।
বর্তমান বাজারে গরুর মাংস প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে এবং খাসির মাংসের কেজি ১৩০০ টাকা। অন্যদিকে কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মণপ্রতি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০, কখনো ৯৫০ টাকায়। অর্থাৎ এক কেজি মাংস কিনতে কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় এক মণ পেঁয়াজ।
শনিবার (৭ মার্চ) সরেজমিনে হরিরামপুর উপজেলার বৃহৎ পেঁয়াজের বাজার ঝিটকা বাজারে গিয়ে কথা হয় কৃষকদের সাথে। তারা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ১ থেকে দেড় মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু সেই ফলন তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারদরে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, মাঠে ফসল ভালো হলেও বাজারে দাম না থাকলে সেই ফসল যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। শ্রমিকদের পাওনা মেটানো, পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করা, বীজ কেনা, সেচ ও দৈনন্দিন সংসারের খরচ সবই চালাতে হয় পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক সময় কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হয়।
হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. জসিম বলেন, আমার জমিতে বছরে দুটি ফসল হয় পেঁয়াজ ও মরিচ। পেঁয়াজ চাষে যদি লাভ না হয়, তাহলে মরিচ চাষের খরচ আসবে কোথা থেকে? আর আমরা খাবই বা কী?
আরেক পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. রহিজ বলেন, একসময় প্রতিমণ পেঁয়াজ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তখন প্রতি হাটে পেঁয়াজ বেচে খাসির মাংস কিনে আনন্দে বাড়ি ফেরা যেত। অথচ এখন এক কেজি গরুর মাংস কিনতেই বিক্রি করতে হচ্ছে এক মণ পেঁয়াজ। খাশির মাংস কিনতে গেলে একমণ পেঁয়াজ বেচেও হচ্ছেনা। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, হরিরামপুর উপজেলা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য একটি সমৃদ্ধ এলাকা। চলতি মৌসুমে আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম। তবে সময়ের সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

















