সময় ডেস্ক :: আজ ১২ ফেব্রুয়ারি বহু কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনের পর দেশে অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ‘বিনা ভোটের নির্বাচন’ নামে খ্যাতি পায়।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ‘নিশিরাতের রাতের নির্বাচন’ নামে উপাধি পায়, আর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ড্যামি নির্বাচন নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অর্থাৎ দীর্ঘ বছর পর এবারই সাধারণ মানুষ ভোটকে উৎসব হিসেবে নিয়েছেন। ভোট দেওয়ার জন্য লাখ লাখ নগরবাসী গ্রামে পৌঁছেছেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে লাখ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামে গেছেন। সবার মধ্যেই একধরণের উৎসব দেখা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও একটি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের এই দিনে ভোটারদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ও নজরদারি। ইসির তথ্যানুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে ৫০টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন। জামায়াতের প্রার্থী মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। বুধবার সকালে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। ১৯৯৬ সালের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগবিহীন প্রথম এই নির্বাচনে বিজয়ী হবে কোন রাজনৈতিক দল বা জোট- তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে।
দেশে এর আগে একাধিকবার গণভোট হলেও সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট এবারই প্রথম। এরই মধ্যে ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে তিন সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ছিলেন কেন্দ্রবিমুখ, আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ভোট কেন্দ্রে যাননি। ফলে গত দেড় দশকে ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকা মানুষেরা ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাজানো, পাতানো ও ভোটাধিকার হরণের বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে তরুণদের বড় অংশই ভোট দিতে পারেননি। তাই এবার ভোটকেন্দ্রে তাঁদের উপস্থিতি ব্যাপক হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উৎসবের সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে কিছু কিছু এলাকায় নিরাপত্তা ও সহিংসতার শঙ্কাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারের জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা ছক সাজিয়েছে। এবারের ভোটের নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে কেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ১৩টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫।
বিভাগওয়ারী আরেকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ভোট বানচাল করতে পারে এমন তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের ২২টি আসন, ময়মনসিংহের ৮, সিলেটের ২, চট্টগ্রামের ১৬, রংপুর বিভাগে ৭, রাজশাহী বিভাগের ১০, খুলনা ও বরিশালের ১৩ আসন রয়েছে। এ সব আসনের প্রায় ২৯০৬টি কেন্দ্রকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
















