সময় ডেস্ক :: সামরিক বল প্রয়োগ না করে গ্রিনল্যান্ড কিনতে অনড় ট্রাম্প
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যে অবিলম্বে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিবিসি জানায়, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।
তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব ও চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
বুধবার দাভোসে বিশ্বনেতাদের সামনে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই শতাব্দী ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করছে।
দ্বীপটিতে ডেনমার্কের কোনো কার্যকর উপস্থিতি নেই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “এটি আসলে উত্তর আমেরিকারই অংশ। এই বিশাল ভূখণ্ড এবং বরফকে রক্ষা করার সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে।”
ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা সম্ভবত কিছুই পাব না যদি না আমি অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিই। সেক্ষেত্রে আমরা অপ্রতিরোধ্য হতে পারতাম। তবে আমি সেটা করব না। আমি কোনো সামরিক বল প্রয়োগ করতে চাই না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল গ্রিনল্যান্ড পাওয়াই এখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে লন্ডনে হাউস অব কমন্সে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন কিয়ার স্টারমার। তিনি ব্রিটিশ এমপিদের জানান, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপের মুখে তিনি কোনোভাবেই ‘মাথা নত’ করবেন না। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল দ্বীপটির জনগণ ও ডেনমার্ক সরকারের বলে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে, যা পরে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্টারমার এই শুল্কের হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে অভিহিত করে বলেন, “বাণিজ্য যুদ্ধ কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ও ব্রিটিশ চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অপরিহার্য’। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো মিত্ররা ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে সমালোচনা করছে।
















