সময় ডেস্ক :: চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়াকে কেবল একটি হার হিসেবে দেখছে না দেশটির সরকার। ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর টানা তৃতীয়বার বিশ্বমঞ্চে অনুপস্থিত থাকা আজ্জুরিদের জন্য এক জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই চরম ব্যর্থতার পর এফআইজিসি সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনার ওপর চাপ বাড়ছে পদত্যাগের জন্য।
ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া অ্যাবোদি সরাসরি জানিয়েছেন, ইতালীয় ফুটবলের এই পতন ঠেকাতে নতুন নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “সবার কাছে এটা স্পষ্ট যে ইতালীয় ফুটবলকে পুরোপুরি সংস্কার করা দরকার। আর সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত ফেডারেশনের নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে।” উল্লেখ্য, ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার পরও গ্রাভিনা নিজের পদ ধরে রেখেছিলেন।
চাপের মুখে থাকা গ্রাভিনা আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি কোচ গেন্নারো গাত্তুসোর ওপর আস্থা রাখতে চান। অন্যদিকে, গাত্তুসো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ। নরওয়ের কাছে হারের পর লুসিয়ানো স্প্যালেত্তি বরখাস্ত হলে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গাত্তুসো। বসনিয়ার কাছে হারের পর তিনি বলেন, “আজ আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলাটা অপরিপক্কতা হবে। এই হার ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক।”
ইতালির ফুটবলের এই সংকট কেবল জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১০ সালের পর কোনো ইতালিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি। চলতি মৌসুমেও কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ছিটকে গেছে ইতালির সবকটি ক্লাব। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি এই পরিস্থিতিকে ‘ইতালীয় ফুটবলের ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “ফুটবল আমাদের বিনোদন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের অংশ।”
২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের মূল আসরে আর দেখা যায়নি নীল জার্সিধারীদের। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ৪৮ দলের আসরেও ইতালির জায়গা না পাওয়াকে ‘অমার্জনীয়’ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইতালীয় ফুটবলের শীর্ষ পদে বড় ধরণের রদবদলের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।

















