শনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আশাশুনি
  4. ইসলাম ও জীবন
  5. কলারোয়া
  6. কালিগঞ্জ
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তালা
  11. দেবহাটা
  12. পাটকেলঘাটা
  13. ফিচার
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন।

দ্বিমুখী চাপে ট্রাম্প : যুদ্ধ থামাতে তাড়া, ইরান ইস্যুতে অস্বস্তিতে মিত্ররা

প্রতিবেদক
Ekramul Kabir
মার্চ ২৮, ২০২৬ ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সময় ডেস্ক :: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে দেশের ভেতরে যুদ্ধবিরোধী জনমত জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। এই দুই বিপরীতমুখী বাস্তবতায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে।

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের টানা বিমান হামলার পরও ইরানের সরকার টিকে আছে। বরং তেহরান পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তাদের অনমনীয় অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ছিল, যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সেই হিসাব অনুযায়ী সময়সীমা এগিয়ে এলেও বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্ধারিত চীন সফরও পিছিয়ে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস আশা করছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলোর প্রতিফলন দেখা যায়। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির আড়ালে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীত মেরুতে। ওয়াশিংটন চায় ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করুক, আর তেহরানের দাবি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা।

তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ঝুঁকিগুলোকে আমূল বদলে দিয়েছে। লড়াই শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকলেও এখন তা একটি ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’।

পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র শুরু থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয়ে ছিল। এই মিত্ররা এখন আশঙ্কা করছে, কট্টরপন্থী নেতাদের শাসনাধীন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরান এসব দেশের জনগণের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কৌশলগত সুবিধায় ইরান

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের এক ধরনের অনিশ্চয়তা ফুটে উঠেছে। এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্প ইঙ্গিত দেন, সামরিকভাবে বড় সাফল্য অর্জন করলেও সামান্য ঝুঁকি থেকেই যেতে পারে। আর সেই ছোট ঝুঁকিই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক ৯৯ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, কিন্তু বাকি ১ শতাংশ থেকে যায়। আর সেই ১ শতাংশই যদি একটি ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে কয়েকশ কোটি ডলারের জাহাজে আঘাত হানে, তাহলে পুরো সাফল্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তাঁর মতে, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আংশিক সাফল্যও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

যদিও ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি, বিশ্লেষকদের ধারণা এই ‘অসম ঝুঁকি’র বাস্তবতাকেই কৌশল হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের টানা হামলায় সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ইরান।

চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত সাবেক কূটনীতিক নেইট সোয়ানসনের মতে, শুরু থেকেই ইরানের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা। তাঁর ভাষায়, তেহরানের প্রধান দুই উদ্দেশ্য—যেকোনো মূল্যে টিকে থাকা এবং সময়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে এমন বার্তা দিতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে সহজে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বিস্তার করে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি চাপ তৈরি করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে যাওয়ায়, এটি বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়ার হুমকিই আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এই বাস্তবতায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে বলছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হামলা না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ থাকলেও, দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বেশ দূরত্বে অবস্থান করছে।

বিপরীত অবস্থানে ওয়াশিংটন–তেহরান

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কোনো সমঝোতা কতটা কাছাকাছি—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আলোচনা এগোচ্ছে, যদিও তিনি নিজে কোনো চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ নন।

ট্রাম্প বলেন, গণমাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিয়ে যে ধারণা দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়। বরং প্রয়োজন হলে আরও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার কথাও জানান।

তবে বাস্তবতা বলছে, দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। জো বাইডেন প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য উপদেষ্টা ইলান গোল্ডেনবার্গের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল বিরোধ এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানের কাছ থেকে কঠোর ছাড় চেয়েছে—পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ত্যাগের দাবি জানিয়েছে। বিপরীতে ইরানও কম যায়নি। তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের শর্ত তুলে ধরেছে।

এমন অবস্থায় দুই পক্ষ কার্যত একে অপরের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ফলে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও, বাস্তবে সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো বেশ কঠিন হয়ে আছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাড়ছে উদ্বেগ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এই দেশগুলো কার্যত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

ইলান গোল্ডেনবার্গ মনে করেন, শুরু থেকেই উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তারা সংঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এখন তারা একদিকে নিরাপত্তা হুমকি, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ—দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছে। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে বলছে, যদি যুদ্ধ শুরু করেই থাকে, তবে সেটি ‘পুরোপুরি শেষ’ করতে হবে। তবে এই ‘শেষ’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রীরা দাবি করেন, এই অভিযান একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ, যা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা এটিকে এক প্রজন্মে একবারই দেখা যায়—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি থেকে রক্ষা করা। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরাক যুদ্ধের মতো নয়। সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলেও, এবার সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং এটি একটি ‘নিরঙ্কুশ সাফল্য’ হিসেবেই দেখা উচিত।

তবে বাস্তবতা বলছে, মাঠপর্যায়ের অনিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক উদ্বেগ এখনো কাটেনি। বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর দুশ্চিন্তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জনমত ক্রমেই যুদ্ধবিরোধী

ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের জোরালো অবস্থানের মধ্যেই দেশটির ভেতরে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে উঠে এসেছে, এই যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত কয়েকটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিকই এই যুদ্ধের বিরোধী। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে জনমত কিছুটা বিভক্ত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিরোধিতার মাত্রা স্পষ্টভাবে বেড়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। একই জরিপে ৬১ শতাংশ মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের সংকট মোকাবিলার কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য জরিপ যেমন- ফক্স নিউজ, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটি, সিবিএস নিউজ এবং রয়টার্স-ইপসোসের জরিপেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে যুদ্ধবিরোধিতার হার ৫৪ থেকে ৬১ শতাংশের মধ্যে।

রাজনৈতিক বিভাজনও এখানে স্পষ্ট। ট্রাম্পের দলীয় সমর্থকেরা যেখানে তুলনামূলকভাবে এই অভিযানের পক্ষে, সেখানে স্বতন্ত্র বা নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে বিরোধিতা অনেক বেশি প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। এমনকি রিপাবলিকান ঘরানার স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন অর্ধেকের বেশি নয়।

তবে বিষয়টি একেবারে একপাক্ষিক নয়। অনেক আমেরিকানই ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানোর পক্ষে মত দেন। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান সামরিক পন্থা কতটা কার্যকর তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। অনেকে মনে করছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করার বদলে নতুন ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিশেষ করে সিবিএস নিউজরে জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন এই সংঘাতকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন যা জনমতের দিক থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

যুদ্ধ শেষ নিয়ে দ্বিধায় ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হতে পারে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ভেতরেই স্পষ্ট কোনো বার্তা নেই। বরং একদিকে শান্তির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে, যা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তাঁকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ, যা সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয়, স্থলসেনা ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।

এদিকে আলোচনার দায়িত্বে থাকা ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাই জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানকে কঠিন বাস্তবতা বোঝাতে পারলে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে যা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ইতিবাচক হবে।

এর মাঝেই নতুন একটি তথ্য সামনে আনেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানি প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের সময় একটি ‘ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা’ দিয়েছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়ে। তাঁর দাবি, আটটি জাহাজ ছেড়ে দিয়ে তারা আলোচনায় আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে চেয়েছে।

পরে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচনায় আসে, যেখানে বলা হয় হঠাৎ করেই কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালির মাঝ দিয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে, যা অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গিয়ে কোথাও কোথাও প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১০ দিনের জন্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও বাজারে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

সব মিলিয়ে একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি এই দ্বৈত অবস্থানই স্পষ্ট করছে, যুদ্ধ শেষের পথ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

সর্বশেষ - জাতীয়