ফিরোজ শাহ : বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইত্যাদি অনুষ্ঠানে চুল দিয়ে ৫টি মাইক্রো টেনে ইতিহাস সৃষ্টি করা আঃ সবুর বুধবার সকালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন।
আব্দুস সবুর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের বল্লী গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। আব্দুস সবুর বল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর বল্লী মোঃ মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জগন্নাথ কলেজের ইতিহাস বিভাগে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়।
যিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন সবুর খান ডিনার নামে। অদম্য সাহস, মেধা আর ইচ্ছা শক্তি ছিল তার মধ্যে। এই ইচ্ছাশক্তির কারণেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান তিনি।
তারপর ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শুরু করেন বই, নাটক লেখা। বই লিখতেন, নাটক লিখতেন; শিল্প আর সৃষ্টির এক অনন্য আলোকিত ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ আঃ সবুর এক অদ্ভুত প্রতিভার ঝলক নিয়ে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করেন।
তার সেই দুর্লভ শক্তির প্রদর্শনী মাথার চুলে পাঁচটি মাইক্রো টেনে মুহূর্তেই সারা দেশে নিজেকে আলোচিত করে তোলে। স্বপ্ন ছিল সামনে, ভবিষ্যৎ ছিল উজ্জ্বল। কিন্তু একই বছর তার জীবনে নেমে আসে কালো অন্ধকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। ধীরে ধীরে তীব্র মাইগ্রেনে ভুগতে ভুগতে মানসিক স্থিরতা হারিয়ে ফেলেন। স্বপ্নভরা সেই তরুণ লেখক-শিল্পী পরিণত হন পথভোলা এক মানুষের ভগ্নছায়ায়।
তারপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সাতক্ষীরার আখড়াখোলা বাজার থেকে বল্লী বাজারের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন আঃ সবুর। মানুষ তাঁকে দেখে কিছু টাকা সাহায্য করত, দয়া করত, আর তিনি চুপচাপ হেঁটে যেতেন দূরের দিকে যেন হারিয়ে যাওয়া কোনো গল্পের চরিত্র। আজ সেই গল্পের ইতি টেনে সবাইকে কাঁদিয়ে সকাল ৮টার সময় না ফেরার দেশে চলে যায় সবার প্রিয় আঃ সবুর।
রাত ৮:৩০ টার সময় বল্লী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয় আলোচিত আঃ সবুরকে।
















