সময় ডেস্ক :: ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধ ছিল সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার প্রথম বড় সংঘর্ষ। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি ছিল অসম এক যুদ্ধ। একদিকে সুসজ্জিত ও সংখ্যায় প্রায় এক হাজার মুশরিক, অন্যদিকে অল্পসংখ্যক ও সীমিত সামর্থ্যের তিনশ’ তেরো জন মুসলিম। কিন্তু এই যুদ্ধের প্রকৃত শক্তি ছিল ঈমান, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আন্তরিক দোয়া।
যুদ্ধের সেই সংকটময় মুহূর্তে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে যে আকুল মিনতি করেছিলেন এবং আল্লাহতায়ালা যেভাবে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিমদের সাহায্য করেছিলেন, তা কোরআন-হাদিসে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে বদর যুদ্ধের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুশরিকদের বিশাল বাহিনী দেখলেন, তখন তিনি তার সাহাবিদের সংখ্যা ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করলেন। কিন্তু এই বাস্তবতা তাকে হতাশ করেনি; বরং তিনি কিবলামুখী হয়ে দুই হাত উঁচু করে আল্লাহর দরবারে আকুল দোয়া করতে লাগলেন।
তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা পূরণ করো। যদি এই ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না। -সহিহ মুসলিম: ১৭৬৩
এই দৃশ্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর প্রতি গভীর নির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে হাত তুলে দোয়া করছিলেন যে এক পর্যায়ে তার কাঁধ থেকে চাদর পড়ে যায়।
















